বহুদিন পর দর্শক পেল মণিহার

আপডেট: 01:33:57 13/07/2016



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বহুদিন পর দর্শকে গমগম করছে এক সময়ের বিখ্যাত সিনেমা হল যশোরের ‘মণিহার প্রেক্ষাগৃহ’। ঈদের ছবি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শকরা। বাংলা চলচ্চিত্রের এই ভয়াবহ দুর্দিনে মণিহারে দর্শকরা ব্ল্যাকে টিকিট কেটেও সিনেমা দেখছেন; যা রীতিমতো হতবাক করেছে যশোরবাসীকে। এমনকী অগ্রিম টিকিটও বিক্রি করা হয়েছে প্রায় এক যুগ পর। দর্শক চাহিদা এতো যে, অনেকে টিকিট না পেয়ে বাড়িতেও ফিরছেন। অথচ দর্শক খরায় ক্রমাগত লোকসান গুনতে গুনতে বিখ্যাত মণিহারের অবয়ব ক্রমেই ছোট হচ্ছে। সৌন্দর্যের কিঞ্চিৎমাত্র অবশিষ্ট আছে।
মণিহারে দেখানো হচ্ছে এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘বাদশা দ্য ডন’। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমাটি ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন দর্শকরা। প্রতিদিন উপচেপড়া দর্শকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে সিনেমা হলটিতে।
এ বছর সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সভাপতি ডি এম শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘সুস্থ ছবি ও ভালো পরিবেশ হওয়ার কারণে হয়তো মানুষ সিনেমা হলমুখি হচ্ছে। বিনোদন থেকে মানুষ সরে যায়নি। দীর্ঘদিন ভালো মানের সিনেমা তৈরি না হওয়ায় মধ্যবিত্তরা সিনেমা হলে যেত না। তাদের কাছে একমাত্র টেলিভিশনই হয়ে ওঠে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এবার রুচিসম্মত সিনেমা তৈরি হওয়ার কারণে মানুষ তা দেখতে হলে যাচ্ছে।’
তবে শহরবাসীর অনেকের ধারণা ভিন্ন। তাদের মতে, প্রতি ঈদের শহরের পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বছর যশোরে সেরকম কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হানার ঘটনা উদ্যোক্তাদের ভড়কে দিয়েছে। পাড়া-মহল্লার অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত মানুষ বিনোদনের আশায় সিনেমা হলে ভিড় জমাচ্ছেন।
মণিহার সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘অনেক দিন পর এবার ঈদে মণিহারে সিনেমা দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু ৫০ টাকার টিকিট ব্লাকে ৬০ টাকায় কিনে সিনেমা দেখতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমাটি দেখে টাকা উসুল হয়েছে। ভালো লেগেছে সিনেমাটি। এ রকম ছবি নির্মাণ করা হলে মানুষ আবার সিনেমা হলমুখি হবে বলে আমার মনে হয়।’
যশোর সরকারি এম এম কলেজের শিক্ষার্থী সজীব জানান, রোববার রাতের শো দেখতে গিয়ে তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণ সিনেমা হলে গিয়ে তিনি টিকিট পাননি। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু তৌহিদুল ও মাহবুবও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন পর বাংলাদেশের সিনেমা যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।’ ঈদের এই জমজমাট ভাব কেটে গেলে বন্ধুদের নিয়ে আবার সিনেমাটি দেখতে যাবেন বলে তিনি জানান।
মণিহার সিনেমা হলের কর্মকর্তা প্রদীপ দাস বলেন, ‘এবার ঈদে মণিহার ভালো ব্যবসা করেছে। সিনেমা ব্যবসার মন্দাভাব খানিকটা কেটেছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রচুর দর্শক আসছে সিনেমা দেখতে।’
তার ধারণা, এ বছর ঈদে মানুষ দীর্ঘ ছুটি পেয়েছে। এ কারণে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে সিনেমা উপভোগ করতে আসার সুযোগ পাচ্ছে।
কালোবাজারে টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুপুরের শো-তে প্রচুর দর্শক হচ্ছে। এ কারণে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি ঠেকানো যায় না।’
এই শতকের গোড়ার দিকেও সিনেমা ব্যবসা জমজমাট থাকলেও বর্তমানে যশোর জেলায় মাত্র পাঁচটি সিনেমা হল চালু রয়েছে। এরমধ্যে মণিরামপুরে দুটি, শার্শার বাগআঁচড়ায় একটি, অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় একটি ও যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হলটি। যশোরে তসবির মহল চালু ছিল। কিন্তু ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগে পবিত্র রমজান মাসে অশ্লীল সিনেমা চালানোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত এটি সিল করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন