প্রভাবশালীরা কেটে নিচ্ছে মাথাভাঙ্গার মাটি

আপডেট: 07:27:17 21/01/2019



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের দমদমা মাঠ এলাকায় অবৈধভাবে মাথাভাঙ্গা নদী খনন করে মাটি তুলে ইটভাটায় বিক্রি করছেন একদল লোক।
যেখানে সেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি তোলার ফলে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ওপরের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচটি ট্রাক্টর মাটি নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আর মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ের অংশে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরের ডালায় ঢেলছেন শ্রমিকরা।
উজিরপুর দমদমা মাঠ এলাকার নদীর ধারে অনেক দিন থেকে বসবাস করে আসছেন জবেদের দুই ছেলে মহব্বত (৫০) ও সানোয়ার (৪৫)। এরা দুই ভাই মাঠেঘাটে শ্রম বিকিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় এক বৃদ্ধা জানান, গত দশদিন ধরে প্রতিদিন কয়েকশ গাড়ি মাটি নদীর পাড় থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইটভাটার মালিকরা প্রতি বর্গফুট মাটি ৫-৬ টাকা দরে কিনছেন। এতে করে ট্রাক্টরের প্রতি ডালা মাটির দাম পড়ছে প্রায় এক হাজার টাকা। প্রভাবশালীদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন ইটভাটা মালিকরা। অন্য কোনো খরচ না থাকায় কারবারিদের পুরো টাকাটাই লাভ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গাঙপাড়ার মরহুম আকবারের ছেলে ও দামুড়হুদা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল (৩৫), ওই গ্রামের মোল্লাপাড়ার মরহুম মকছেদের ছেলে আকুব্বার আকু (৪০), স্কুলপাড়ার মরহুম লোকমান বিশ্বাসের ছেলে মতিসহ (৫০) যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি কাটার কাজে জড়িত। প্রতিরোধ না হওয়ায় এদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে চলছে।
চুয়াডাঙ্গার একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও তিনটি ইটভাটার মালিক ইকবাল মাহমুদ টিটু বলেন, ইট তৈরির কাজে মাটি প্রয়োজন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় মাটি পাওয়া কঠিন। সেকারণে মাটি সংগ্রহে তাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সরবরাহকারী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে সরবরাহ করেন। কিন্তু সেটা কোথা থেকে আনা হয় তা দেখা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, বিদায়ী জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ নদী খনন ও বালি উত্তোলন কাজে উৎসাহিত করতেন। সে সময় ইটভাটা মালিকরা মাথাভাঙ্গা ও চিত্রানদী ও নবগগঙ্গা খাল কেটে সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করতেন। বর্তমান জেলা প্রশাসক গোপালচন্দ্র দাস যোগদানের পর নদী ও খাল থেকে মাটি না কাটার নির্দেশ জারি করেন।
এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হাসান বলেন, ‘নতুন জেলা প্রশাসক যোগদানের পর তিনি নদী ও খাল কেটে মাটি তোলা বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করলে আমি একটি দাপ্তরিক চিঠি তৈরি করে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিই। ওই চিঠি সংশ্লিষ্ট থানায়ও দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধের ব্যাপারে তহশিলদারদের কাজে লাগানো হচ্ছে। মাটি কাটার খবর পেলে তহশিদারদের সেখানে পাঠিয়ে তা বন্ধ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন