পৌষপার্বণ : মহিমান্বিত লোকউৎসব

আপডেট: 02:49:16 11/01/2018



img

বাবুলচন্দ্র সূত্রধর

প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ তারিখে পৌষপার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। বারো মাসে তেরো পূজার অনুসারী বাংলা-ভারতের অগণিত ভক্তকুলসহ লাখো জনতা বছরের এই বিশেষ দিনটিন জন্য যেন মুখিয়ে থাকেন। অন্যান্য যেকোন পর্বের চেয়ে এতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। অবশ্য আধ্যাত্মিকভাবেও এর রয়েছে সুগভীর তাৎপর্য। অর্থাৎ ইহলৌকিক পারলৌকিক সকল প্রকার আনন্দের সম্মিলন রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।

পৌষপার্বণের অনুষঙ্গ
পৌষপার্বণ আয়োজনের উদ্দেশ্য বহুমুখী। অনুসারী লোকজন তাদের জীবন-যাপনের অনেক অনুষঙ্গকে এই পার্বণটির সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে-
ক. ধর্মীয়
    আধ্যাত্মিক গান-কীর্তন
    ইষ্টদেবতা ও প্রয়াত পূর্বসূরিদের উদ্দেশে ভোগ নিবেদন
    গঙ্গাস্নান, প্রাতঃস্নান, তর্পণ ও আগুন পোহানো
    বিশেষ প্রার্থনা ও মনোস্কামনা পোষণ
    পাপ-পঙ্কিলতা ও জীর্ণতাকে বিসর্জন দিয়ে সত্য তথা ধর্মপথে অগ্রসর হওয়ার সঙ্কল্প
    দান-দক্ষিণা
খ. সামাজিক
    পিঠা-পায়েস, দই-চিড়া, শাক-ভাতসহ হরেক রকমের খাদ্যদ্রব্যের আয়োজন
    অতিথি আপ্যায়ন ও আতিথ্য গ্রহণ
    নিকটস্থ সকলের সাথে কুশলাদি বিনিময়
    গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
    প্রতিবেশী সকলের বাড়িতে গমনাগমন
    ভেদাভেদ ভুলে সকলের প্রতি সম-অনুভূতি প্রকাশ
গ. পারিবারিক
    নতুন পোশাক পরিধান ও নিকটজনকে বিতরণ
    পুরো বছরে পরিবারের সকলের একত্রিত হওয়া
    পংক্তিভোজন
    পারিবারিক নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ
    বাস্তুশুদ্ধি
    বাপের বাড়ি/ শ্বশুরবাড়ি বেড়ানো
ঘ. অর্থনৈতিক
    শিল্পদ্রব্য (কাঠ, বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র/সামগ্রী)-এর ব্যবসা
    খাদ্যদ্রব্য (মিষ্টি, দই, চিড়া, নাড়ু, কদমা, বাতাসা, নানা ধরনের ফলমূল)-এর ব্যবসা
    মৎস্য (নানা স্থানে অনুষ্ঠিত হয় বিরাট বিরাট মাছের মেলা)
    নানা উপকরণে তৈরি খেলনা সামগ্রী
ঙ. বিনোদন
    নানা ধরনের খেলাধুলা, প্রীতি ম্যাচ, ঘুড়ি উড়ানো, ঘোড়দৌড় আয়োজন
    যাত্রা/নাটক আয়োজন
    মেলা ও বন্ধুসভা
চ. শৈল্পিক
    আসবাবপত্র ক্রয়/ নির্মাণ ও গৃহসজ্জা
    ঘরের দেয়াল ও উঠানে নান্দনিক আল্পনা অঙ্কন (সাধারণত নানা রঙের মাটি ও চালের গুঁড়ো দিয়ে)

আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ এবং মীন- এই বারোটি রাশির অধীনে বারো মাস আবর্তিত। প্রতি ছয় মাসে এক অয়ন- উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ন। মাঘ হতে আষাঢ় উত্তরায়ন ও শ্রাবণ হতে পৌষ দক্ষিণায়ন। দেবলোকে উত্তরায়ন দিন ও দক্ষিণায়ন রাত। অর্থাৎ, নরলোকের বছরে দেবলোকের এক দিন। ধনুরাশিতে পৌষ মাস ও মকর রাশিতে মাঘ মাসের অবস্থান। ধনুরাশির সমাপ্তি ও মকর রাশির সূচনালগ্নে দেবতারা নিদ্রা ভঙ্গ করেন। প্রাতঃকালে সাধারণত সকলেরই মন প্রফুল্ল থাকে। তাই এই শুভক্ষণটির জন্য ভক্তকুলের অধীর অপেক্ষা। বৃহৎকৃষ্ণলীলায় বর্ণিত আছে, মা যশোদা বালক শ্রীকৃষ্ণকে এই শুভক্ষণের বার্তা দিয়ে গাত্রোত্থানপূর্বক গঙ্গাস্নানের আদেশ করেন।

সত্যপ্রতিজ্ঞ ভীষ্ম ও পৌষপার্বণ
এই মহা শুভক্ষণটি মাহাত্ম্যের মহত্তম শিখরে আরোহন করে সত্যপ্রতিজ্ঞ মহাবীর ভীষ্মদেবের স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের মধ্য দিয়ে।
পরম দেবতা মনুর পুত্র দক্ষ প্রজাপতি। তাঁর কন্যা বসুর আট পুত্রসন্তান অষ্টবসু নামে খ্যাত। এঁরা হলেন ভব, ধ্রুব, সোম, অহঃ, অনিল, অনল, প্রত্যূষ ও প্রভাস। তাঁরা একদা সস্ত্রীক মহামুনি বশিষ্ঠের আশ্রমে বেড়াতে গিয়েছিলেন। নন্দিনী নামে বশিষ্ঠের একটি কামধেনু ছিল। কামধেনুটির রূপ দেখে ও গুণাবলী শুনে প্রভাসের স্ত্রী স্বামীর কাছে এটি চেয়ে বসলেন। অন্য বসুদের সহযোগিতায় সেটিই করা হল। বশিষ্ঠ ধ্যানযোগে তা জেনে অভিশাপ দেন যে, অষ্টবসুর নরলোকে জন্ম হবে। সংবাদ শুনে অষ্টবসু বশিষ্ঠমুনির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য এলে তিনি বললেন, 'আমার বাক্যের খণ্ডন হবে না- তোমাদের নরলোকে যেতেই হবে। তবে সাতজন গিয়েই চলে আসবে আর যে গাভীটি অপহরণের জন্য মূলগত দায়ী, সে পুরো জন্ম নরলোকে থেকে আসবে- সে অতি ধার্মিক, পিতৃপ্রিয় ও মহাবীর হবে, তবে স্ত্রীসঙ্গ পাবে না।’
দৈববিধানে হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনু ছদ্মবেশধারিণী গঙ্গাদেবীর প্রতি আকৃষ্ট হলে গঙ্গা শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানান।শর্তটি হল, গঙ্গাদেবীর কোন কাজে রাজার কোন আপত্তি থাকবে না। এভাবেই রাজা গঙ্গাকে স্বগৃহে নিয়ে আসলেন। রাজার এক এক করে পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে আর গঙ্গা নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেন। শর্তরক্ষার খাতিরে রাজা কোন প্রতিবাদ করতে পারেন না, কিন্তু অন্তরে ভীষণ কষ্ট অনুভব করতে থাকেন। গঙ্গা যখন অষ্টম সন্তান বিসর্জন দিতে যান, তখন রাজা আর ঠিক থাকতে পারলেন না। তিনি গঙ্গাকে প্রতিরোধ করলেন। তখন গঙ্গদেবী তাঁর আসল পরিচয় দিয়ে অষ্টবসুর কাহিনী বর্ণনা করে বললেন, ‘আমি সন্তানটি নিয়ে যাচ্ছি, যথাসময়ে দিয়ে যাব’ বলে অন্তর্ধান হলেন। সন্তানের নাম দেবব্রত। দেবব্রত বশিষ্ঠের কাছে বেদ-বেদান্ত, দেবগুরু বৃহস্পতির কাছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও পরশুরামের কাছে যুদ্ধবিদ্যা শিখে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রনায়ক হয়ে পিতার কাছে ফিরে এলেন।
একদিন রাজা শান্তনু গঙ্গাতীরে ধীবর রাজকন্যা পরমা সুন্দরী সত্যবতীকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। ধীবর রাজার যুক্তি- সত্যবতীর সন্তান কখনো রাজা হতে পারবে না, কারণ দেবব্রত রাজার প্রথম সন্তান। সংবাদটি শুনে পিতৃবৎসল দেবব্রত বিমর্ষ হয়ে ধীবর রাজাকে জানালেন যে, তিনি কোনদিন রাজা হবেন না। উত্তরে বিচক্ষণ ধীবর রাজা বলেন, 'তুমি রাজা না হলে তোমার সন্তানরা তো হবে।’ দেবব্রত জীবনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। এই রাজবংশে অন্য কেউ সিংহাসনে বসলে দেবব্রত অসহযোগিতা করতে পারেন- কুলগুরুর এই প্রশ্নে দেবব্রত আবারো প্রতিজ্ঞা করেন, যেই সিংহাসনে বসুক তিনি সর্বত সহযোগিতা দান করে যাবেন, যাতে রাজা শান্তনুর বংশের কোন অসম্মান না হয়। রাজা শান্তনু সত্যবতীকে রানিরূপে গ্রহণ করলেন। পুলকিত রাজা পুত্র দেবব্রতকে বর দান করেন যে, ভীষ্ম মৃত্যুবরণ করবেন সম্পূর্ণ ইচ্ছমাফিক। এই ত্রিবিধ কঠোর প্রতিজ্ঞার জন্য দেবব্রতের নাম হল ভীষ্ম। আজীবন এই প্রতিজ্ঞা শ্রদ্ধাভরে পালনের জন্য তাঁর নাম হয়ে ওঠে 'সত্যপ্রতিজ্ঞ ভীষ্ম’, যা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত প্রবাদ। পরস্পর-বিধ্বংসী যুদ্ধে লিপ্ত পাণ্ডব-কৌরব উভয় ‍শিবিরের কাছে তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় পিতামহ ভীষ্ম।
কুরুক্ষেত্র মহাসমরের আটারো দিনের দশম দিনে সূর্যাস্তের পূর্বমুহূর্তে ভীষ্ম বীর অর্জুনের শরে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে রথ থেকে পড়ে যান। ভীষ্ম অবগত ছিলেন যে, উত্তরায়নের আরো ৫৮ দিন বাকি। যেহেতু তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত, তাই মনস্থ করলেন যে, উত্তরায়নের শুভলগ্নেই তিনি ধরাধাম ত্যাগ করবেন- শরশয্যায় যত কষ্টই হোক, মৃত্যুযন্ত্রণা যতই কঠিন হোক, এখানে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে সচক্ষে দেখতে পাবেন- এমন সৌভাগ্য আর কীসে হতে পারে! অবশেষে সেটিই হল। সত্যপ্রতিজ্ঞ ভীষ্ম রেখে গেলেন সত্য তথা ধর্মরক্ষার অপূর্ব নিশানা। আর, সত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত হল মহামুনি বশিষ্ঠের ঋষিবাক্য।
পৌষপার্বণ-স্থানে স্থানে দেশে দেশে
বাংলা, ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক অতি জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভরে পালনীয় লোক উৎসব। বাংলা অঞ্চলে বিভিন্ন নামে এই অনুষ্ঠানটি পরিচিত; যেমন- পৌষ সংক্রান্তি, মকর সংক্রান্তি, তিলো সংক্রান্তি, উত্তরায়ন সংক্রান্তি, সাংক্রাইত, সংক্রাইন, সাকরানি, বাস্তুব্রত, পৌষপিঠা, টুসুপূজা প্রভৃতি। অবশ্য ভারতবর্ষের বাইরে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও পৌষপার্বণ আয়েজিত হয়। থাইল্যান্ডে সোংক্রান, কম্বোডিয়ায় মোহা সোংক্রান, লাওসে পি মা লো, মিয়ানমারে থিংইয়ান ও নেপালে মাঘী নামে পৌষপার্বণ পালন করা হয়। ভারতের তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল (চারদিন), কর্ণাটকে মকর সংক্রমণ, অন্ধ্র ও কেরলে মকর সংক্রান্তি, রাজস্থান ও গুজরাটে উত্তরায়ন (দু’দিন সরকারি ছুটি), মহারাষ্ট্রে তিলগুল, মধ্যপ্রদেশে সুক্রাত, কাশ্মীরে শায়েন ক্রাত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল ও জম্মুতে লোহরী, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে খিচড়ি পরব ও আসামে ভোগালী বিহু নামে এই অনুষ্ঠানের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর লোকজন পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসব পালন করে ‘সহরাই’ নামে।

সিলেট অঞ্চলে পৌষপার্বণের বিশেষ প্রেক্ষিত
বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় সকল অঞ্চলেই নানা আয়োজনে পৌষপার্বণ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পৌষপার্বণের বর্ণিত অনুষঙ্গসমূহের মধ্যে একমাত্র সিলেট অঞ্চলেই প্রায় সবক’টির সগৌরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দেশের প্রায় ৩0টি অঞ্চল/জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে ও সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে যে, কোন স্থান বা জনগোষ্ঠীতে পুরোপুরি এসব অনুষঙ্গ পালিত হয় না; আবার একই অনুষঙ্গ ভিন্ন ভিন্ন রীতি/উপায়ে পালিত হতেও দেখা গেছে। যে বিশেষ অনুষঙ্গে সকলের মিল রয়েছে, তা হলো পিঠা-পায়েস তৈরি- এজন্যেই এর বহুল পরিচিত আরেক নাম হচ্ছে পিঠাপার্বণ।কিন্তু সিলেট অঞ্চলের যেকোন স্থানে এসময়ে ভ্রমণ করলে অনুষ্ঠানের ছোঁয়া পাওয়া যাবে। বললে অত্যুক্তি হবে না যে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বাদ দিলে এতদঞ্চলে পৌষপার্বণ একটি সর্বজনীন রূপ পরিগ্রহ করে থাকে। সিলেটের এই যে বিশেষত্ব, এটি সামাজিক অধ্যাত্মবাদী গবেষণার দাবি রাথে।
বর্তমান প্রেক্ষিত
তবে একথাও স্বীকার করা প্রয়োজন যে, পৌষপার্বণ এর আগেকার জৌলুসপূর্ণ অবস্থায় এথন আর নেই। এর কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। যেমন :
     সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি
     বিনোদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন তথা আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসী প্রভাব
     দূরবর্তী কর্মক্ষেত্র ও প্রবাসে অবস্থান
     প্রকৃতি-নির্ভরতা হ্রাস (বিশেষত কৃষিক্ষেত্রে)
     সমিতি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রীক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন
     অনিরাপত্তা বোধ (ক্ষেত্রবিশেষে); প্রভৃতি।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রকৃতির অকৃপণ আনুকূল্য, ফসল তথা ক্ষেতকর্মের সমাপ্তি, বিস্তীর্ণ ফাঁকা মাঠ, চলাফেরার সুবিধা, আর্থিক সচ্ছলতা প্রভৃতি নানা কারণে পৌষপার্বণ অনুষ্ঠানটির অনুষঙ্গসমূহের আয়োজনে বিশাল সুবিধা পাওয়া যায়। তাইতো সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা আয়োজন। আর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তো ছিল, আছে ও থাকবে।

লেখক : মানবাধিকারকর্মী; সহ-সমন্বয়ক, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব), বনানী, ঢাকা। ই-মেইল : bc_sutradhar@yahoo.com

আরও পড়ুন