পুঞ্জিভূত দেনা শোধ করতে আয় শেষ মোচিকের

আপডেট: 12:29:36 05/07/2016



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : পুঞ্জিভূত দেনা শোধ করতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের (মোচিক)। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ভুগছে তীব্র অর্থ সংকটে।
এমনকী মুসলিমদের সবচে’ বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর সমাগত হলেও প্রায় ৬০০ শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর জুন মাসের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আপাতত বোনাসের টাকা পরিশোধ করছে মিলটি।
ঈদের আগে জুন মাসের বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা জুন মাসের বেতন ও সরকারঘোষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
মোচিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটির চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদন হয় চার হাজার ২৩৫ টন। সর্বশেষ ২০১৫-২০১৬ মাড়াই মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় চার হাজার ১২০ টন। তবে উৎপাদিত হয়েছে চার হাজার ১২৫ টন। গত দুই মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত মোট আট হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন চিনির বৃহদাংশ অবিক্রিত থেকে গেছে; যার দাম প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আখ চাষ ও চিনি উৎপাদন ক্রমেই কমছে। সরকারের নীতিও আখচাষ বন্ধ করায়।
মিল কর্তৃপক্ষ গত কয়েক মাস ধরে ২০১৩-২০১৪ মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত চিনি ও সবে শেষ হওয়া আখ মাড়াইয়ের চিনি বিক্রি করছে। তবে সে টাকার সিংহভাই হেড অফিসের দেনা পরিশোধ করতে ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে কর্মীদের জুন মাসের বেতন অপরিশোধিতই থেকে যাচ্ছে।
মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম নবী জানান, মিলের প্রায় ৬০০ শ্রমিক কর্মচারীর জুন মাসের বেতন পাচ্ছেন না। ফলে এসব শ্রমিক পরিবার ঈদের আনন্দ উৎসব পালন করতে পারবে না।
তবে কেন বেতন দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে ইউনিয়ন সভাপতির উত্তর,  ‘তা জানে মিলের হেড অফিস। আমরা বলতে পারব না। ঈদের কথা চিন্তা করে মিলের নিজস্ব ফান্ড থেকে প্রত্যেক শ্রমিককে পাঁচ হাজার টাকা করে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’
রবিউল ইসলাম নবী আরো বলেন, ‘আমরা শ্রমিক কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ইতিমধ্যে মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদানসহ গেটসভা করেছি। ঈদের পর নতুন কর্মসূচি আসছে। সে অনুযায়ী দাবি আদায়ের আন্দোলন চলবে।’
মোচিকের বর্তমান পুঞ্জিভূত দেনা প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। দিন দিন আখ চাষ কমছে। কমছে মিলের আয়ও। ফলে ঋণ নিয়ে টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আসছে অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, ‘আমি আখচাষ উঠিয়ে দেওয়ার পক্ষে।’ অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা বুঝেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানায় এদেশে আর চিনিকল থাকবে না।
১৯৬৫ সালে হল্যান্ডের স্টর্ক ওয়ার্কস পুওর কোম্পানির নির্মাণ করা মিলটির প্রতিদিন মাড়াই ক্ষমতা দেড় হাজার মেট্রিক টন। ১৮৯.৪০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি প্রথম পরীক্ষামূলক মাড়াই মৌসুম শুরু হয় ১৯৬৭-৬৮ সালে।


এ সংক্রান্ত আরও রিপোর্ট পড়ুন

মোচিক গেট পার হলেই চিনির দাম বেড়ে যায় ১০-১৪ টাকা

কালীগঞ্জে মোচিক শ্রমিকদের মানববন্ধন


 

আরও পড়ুন