পাইকগাছা হাসপাতালে সেবা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি

আপডেট: 07:18:30 14/01/2019



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে রোগীরা অভিযোগ করছেন। ডাক্তার ও নার্সদের অনীহার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের ভোগাচ্ছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের চেয়ে সেবার মান বেড়েছে। কিন্তু একটি সংস্থার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। ফলে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা সদরের ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সামনে অবস্থিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটি উপজেলার তিন লাখ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সবচেয়ে বড় ও সুলভ প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এক সময় হাসপাতালের সেবার মান যথেষ্ট ভালো ছিল। কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা কারণে গত কয়েক বছর হাসপাতালের সেবার মান ক্রমেই নামছে। সম্প্রতি ডাক্তার ও নার্সসহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছেন মাত্র দশজন। ২০ জন নার্স ও চারজন মিডওয়াইফের সবাই বহাল রয়েছেন। দুটি ফার্মাসিস্ট, তিনটি এমপি ল্যাব, একটি রেডিওগ্রাফার, তিনটি ওয়ার্ডবয় ও দুটি আয়া পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এমএলএসএসের চারটি ও প্রহরীর দুটি পদের অর্ধেকই শূন্য। পাঁচজন সুইপারের স্থলে কাজ করছেন মাত্র একজন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামছুল হুদা খোকন নামে এক ব্যক্তি বলেন, হাসপাতালে এখন সেবা নেই বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টায় ডাক্তার একবার রাউন্ডে এলেও দায়সারাভাবে দেখে চলে যান। নার্সদের তো প্রয়োজনের সময় ডেকেই পাওয়া যায় না।
রহিমা বেগম নামে আরেক রোগিনী জানান, হাসপাতাল এত বেশি অপরিচ্ছন্ন থাকে, রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি রয়েছে বিড়ালের উপদ্রব।
মাসুম বিল্লাহ নামে আরেক রোগী বলছেন, বাথরুম সব সময় নোংরা থাকে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। জানালা-দরজা বেহাল হওয়ায় এই মওসুমে শীতল হাওয়া ঢোকে হাসপাতালের রুমে।
তবে রোগীদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানকার অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে কর্মচারীর যথেষ্ট সংকট রয়েছে। বিশেষ করে, একটি সংস্থার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই প্রকল্পের সব কর্মচারী চলে গেছেন। যার ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সুজনকুমার সরকার বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সেবার মান এখন অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে, এক সময় হাসপাতালে তেমন কোনো ডেলিভারি হতো না। অ্যানেস্থেসিস্ট আসার পর প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন গর্ভবতী নারীর ডেলিভারি হচ্ছে এখানে।
‘প্রত্যেকদিন আমরা ৭-৮ জন ডাক্তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি। অনেক সময় আমরা ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করি। ডেলিভারির পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, হাসপাতালে এখন সেবার মান কেমন,’ যোগ করেন আরএমও ডা. সরকার।
হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি করার লক্ষে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন