পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস

আপডেট: 03:40:08 21/01/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। যে কোন মুহূর্তে পরিত্যক্ত ভবন ধসে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
১৯৪২ সালে উলাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার সময় বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয়। উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠের পুরনো ভবনটি ২০১২ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তুআজো নতুন ভবনের মুখ দেখেনি সেখানকার শিক্ষার্থীরা। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের সেই পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করতে হয় বর্ষা-বাদলের মধ্যে। আর পরিত্যক্ত ভবনে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় স্কুল মাঠের গাছতলায় জরাজীর্ণ টিনশেডের নীচে ঠাঁই হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। অন্য দুটি ভবনের চারটি কক্ষের একটি অফিস কক্ষ এবং তিনটি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম।
উলাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১১ জন শিক্ষক এবং প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী আছে। এ জন্য দশটি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। কিন্তু আছে মাত্র তিনটি। শ্রেণিকক্ষের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে। যে কোন মুহূর্তে পরিত্যক্ত ভবন ধসে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বারবার ভবনের জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও শিক্ষা অফিস থেকে শুধু আশ্বাস পাওয়া যায়। ছয় বছরে ভবন তৈরির বরাদ্দ মেলেনি।
প্রধান শিক্ষক জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর মেধা তালিকায় নাম থাকে শিক্ষার্থীদের। এমন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে চারজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে মেধা তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
শার্শা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার উলাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। প্রতি বছর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিত্যক্ত ভবনের ছবিসহ বারবার আবেদন করার পরও কেনো নতুন ভবনের বরাদ্দ আসছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

আরও পড়ুন