নড়াইল হাসপাতালে যে চিত্র দেখলেন মাশরাফি

আপডেট: 02:13:42 27/04/2019



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম দেখতে হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়লেন সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তুজা।
কাউকে কিছু না জানিয়ে ২৫ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে ছিলেন এই খ্যাতিমান ক্রিকেটার জনপ্রতিনিধি।
হাসপাতলে ঢুকেই তিনি ডাক্তারদের অবস্থান জানতে হাজিরা খাতা দেখেন। হাজিরা খাতায় সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আকরাম হোসেনের তিন দিনের অনুপস্থিতির প্রমাণ পেয়ে ছুটির আবেদন দেখতে চান তিনি। পরে জানতে পারেন, ছুটি ছাড়াই সেই ডাক্তার তিনদিন অনুপস্থিত।
এ সময় মাশরাফি রোগী সেজে ওই চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি রোববার হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন। এ সময় নিজের পরিচয় দিয়ে এমপি ডাক্তারকে বলেন, ‘এখন যদি হাসপাতালে কারো সার্জারি প্রয়োজন হয় তাহলে সেই রোগী কী করবে?’ এরপর সেই ডাক্তারকে তার কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসার নির্দেশ দেন মাশরাফি।
এরপর মাশরাফি নারী ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যার কথা শোনেন। ওই সময় পুরো হাসপাতালে মাত্র একজন ডাক্তারের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে নাখোশ হন তিনি।
সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র দুইজন নার্স দেখে তাদের ডিউটির ব্যাপারে খোঁজ নেন মাশরাফি। জানতে পারেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও ২-১ জন নার্স দিয়েই বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিচালিত হচ্ছে।
তখনই নিচে নেমে নার্সিং সুপারভাইজারদের খোঁজ করেন মাশরাফি। নার্সদের কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে টেলিফোনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। এসময় একজন সুপারভাইজারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং অপরজনের ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করেননি।
রোগীদের অনুরোধে হাসপাতালের ওয়াশরুমের নিজে দেখে এবং মোবাইলে ছবি তুলে নেন মাশরাফি। কয়েকটি ওয়াশরুমের দরজা ভাঙা এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন সংসদ সদস্য। তখনই তিনি এই ব্যাপারে জানার জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে ফোন করতে বলেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বীথি খাতুন এসময় অফিসে উপস্থিত থেকে মাশরাফির নানা প্রশ্নের জবাব দেন। মাশরাফি জানতে পারেন, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্সের কোনো সংকট নেই। এই মুহূর্তে ৭৩ জন নার্স রয়েছেন হাসপাতালটিতে।

আরও পড়ুন