নড়াইলে থামছেই না মোটরসাইকেল চুরি

আপডেট: 08:13:41 21/04/2017



img

হাফিজুল নিলু, নড়াইল : নড়াইলে শহরে কোনোভাবেই থামছে না মোটরসাইকেল চুরি। শহরে চোরের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত এক মাসে অন্তত ২৫টি মোটরসাইকেল চুরি হলেও এর একটিও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে আতঙ্কে রয়েছেন মোটরসাইকেল মালিকরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শহরের রূপগঞ্জ এলাকা, সদর হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অফিস, মহিষখোলা, ভওয়াখালী এলাকা থেকে গত এক মাসের মধ্যে প্রায় ২৫টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। বেশির ভাগ মোটরসাইকেলই দিনে-দুপুরে চুরি হয়। এছাড়া কয়েকটি বাইক বাড়ির গ্রিল ভেঙে রাতের বেলায় চুরি হয়।
কয়েকজন মোটরসাইকেল মালিক এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও আজ পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজে চোরকে দেখা গেলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে তারা।
সংশ্লিষ্ট নানা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইল রূপগঞ্জ এলাকা থেকে দুপুরে একটি ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল চুরি হয় ইসলামী ব্যাংক নড়াইল শাখার কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে চুরি হয় ওয়ার্ল্ড ফিস কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের হিরো হোন্ডা ১০০ সিসি বাইকটি। নড়াইল সদর হাসপাতলের সামনে থেকে বেলা ১২টার দিকে অ্যাপাচি ১৫০ সিসি একটি নতুন মোটরসাইকেল চুরি হয় আউড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা পলাশ মোল্লার। তার আগে শহরের পুরনো টারমিনাল এলাকা থেকে ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল চুরি হয় সাজ্জাদ নামে একজনের। বিদ্যুৎ অফিসের মধ্য থেকে চুরি হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামানের ১০০ সিসি মোটরসাইকেল।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে এক মাসের ব্যবধানে অনন্ত ২৫টি মোটরসাইকেল চুরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল মালিকরা জানান, দিনের বেলা দৈনন্দিন কাজ করার জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেল রাখার পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই তাদের মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। কয়েকটি বাড়ি থেকে রাতে গ্রিল কেটে চুরি হয় বাইক।
ইসলামী ব্যাংক নড়াইল শাখার কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো ব্যাংকের নিচে মোটরসাইকেল রেখে অফিসে যাই। অফিস শেষ করে এসে দেখি মোটরসাইকেল নেই। এ বিষয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। পুলিশ এখনো মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে পারেনি।’
আউড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা পলাশ মোল্ল্যা বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ থাকলেও চোরকে আটক করা তো দূরের কথা, গাড়িটিও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।’
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে মোটরসাইকেল চোর আটক হবে।
শহরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘শহর থেকে আর কোনো মোটরসাইকেল যাতে চুরি হতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘নড়াইলকে মাদকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে শহরে এ ধরনের চুরি হয়ে থাকতে পারে। তবে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যাতে আর কোনো চুরির ঘটনা না ঘটে।’

আরও পড়ুন