ধর্ষিত দশ বছরের অন্তঃসত্ত্বা শিশু ঝুঁকিতে

আপডেট: 05:27:36 05/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর জেনারেল হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা এক শিশু (১০)। 
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কমবয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে গর্ভের সন্তান ও তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।
৩ সেপ্টেম্বর গভীররাতে মেয়েটিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়ার (৫৬) বাসায় শিশুটি কাজ করতো। গোলাম কিবরিয়া তাকে কয়েকদফা ধর্ষণ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গোলাম কিবরিয়া বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
শিশুটির বাবা জানান, মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন। শিশুটির মায়ের সঙ্গে তালাক হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি যশোরে তার নানাবাড়ি যশোরে থাকতো। গত বছর তার মেয়েকে বাসায় কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করাবেন বলে যশোর থেকে মণিরামপুরে নিয়ে যান। মেয়েটি তাকে নানা বলে ডাকতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফাঁকা থাকায় কিবরিয়া তার মেয়েকে প্রথম ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে মেয়েটি বাধা দেয়। এরপর তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরে কিবরিয়ার স্ত্রী রওশনআরাকে জানালে তিনি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যে শাসায়। এরপর কয়েকদফা তাকে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ রাতে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়। মাসতিনেক আগে মেয়েটির শরীর খারাপ করলে তাকে যশোরে একজন পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। ডাক্তার প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্সণ করে জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনো করে দেখা যায় সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ১ জুলাই মেয়েটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নম্বর ০২/০১.০৭.১৯)।
মণিরামপুর থানার এসআই এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস বলেন, আজ (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মেয়েটি ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।  সে ও তার গর্ভের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গর্ভের শিশুটির গ্রোথ তেমন নয়। সেকারণে ডাক্তাররা তাকে খুলনায় রেফার করেছেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার আরও দুইদিন দেখতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত কিবরিয়াকে ১ জুলাই গ্রেফতার করা হয়; তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিলা নূরিয়া জানান, একটি শিশু আরেকটি শিশুকে ধারণ করেছে। এখনও তার প্রসবের সময় হয়নি। তবে, সে পেটে প্রচ- ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে, মা ও তার গর্ভস্থ সন্তান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন