দলীয় প্রতিপক্ষের সমালোচনা আ. লীগের দুই সভা থেকে

আপডেট: 08:42:57 17/04/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বিভক্তির ধারা অব্যাহত রাখলো যশোর আওয়ামী লীগ। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসেও দলের দুই অংশ শহরের দুই জায়গায় সভা করেছে।
বিভক্ত কর্মসূচি দুটি আয়োজন করা হয় দড়াটানা ও আইনজীবী সমিতির মোড়ে। এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন; অন্যটিতে সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। দুই সভা থেকেই দলীয় প্রতিপক্ষের উদ্দেশে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।
এর আগেও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আলাদা আয়োজনে পালন করে দলটি। সেক্ষেত্রে শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য। আর শহিদুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বাধীন অংশে হাজির থাকেন সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
সোমবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শহরের ভৈরব চত্বরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা হয়।
এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খয়রাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার।
এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, আলী রায়হান, আব্দুল কাদির, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
একই সময়ে শহরের আইনজীবী সমিতির মোড়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে একই উপলক্ষে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের সদর উপজেলা সভাপতি মোহিতকুমার নাথের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।
এই সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু প্রমুখ।
সভা দুটি ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হলেও বক্তারা দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অংশের বিরুদ্ধে সমালোচনার তির ছোড়েন।
ভৈরব চত্বরের সভায় বক্তব্যকালে শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘যশোর আওয়ামী লীগ নিকট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।’ একটি মহল দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি কেন্দ্র ঘোষিত যুবলীগের যশোর সদর উপজেলা ও শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটি ‘টিকবে না’ বলে মন্তব্য করেন। বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।’
তিনি নেতাকর্মীদের কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আর আইনজীবী সমিতি মোড়ের সভায় বক্তৃতাকালে সদর উপজেলা সভাপতি মোহিতকুমার নাথ দলের এক নেতাকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যশোর আওয়ামী লীগে কোনো সন্ত্রাসী গডফাদারের জায়গা হবে না। ইতিমধ্যে সদর উপজেলা ও শহর যুবলীগ সন্ত্রাসী গডফাদারের রাহুমুক্ত হয়েছে। অন্য কমিটিগুলোও দ্রুতই রাহুমুক্ত হবে।’
এই সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘দলীয় বিভক্তি বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। এখন যদি আমরা আবার হানাহানি শুরু করি তাহলে সেই রকম বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন