ঢাকায় 'জঙ্গি আস্তানা'য় অভিযানে তিন তরুণ নিহত

আপডেট: 02:54:17 12/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কয়েকশ গজ দূরে রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে তিনজন নিহত হয়েছে।
পুরনো এমপি হোস্টেলের পেছনে 'রুবি ভিলা' নামের ওই ছয় তলা বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে তিনটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিস্ফোরক জেল ও একটি পিস্তল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।
র‌্যাবের উপ-পরিচালক মেজর মেহেদী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে ওই ভবন র‌্যাব সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। পরে শুক্রবার ভোরের দিকে সেখানে গোলাগুলি হয়।
সে সময় ওই ভবনের পঞ্চম তলার ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গ্রেনেডও ছোড়া হয় বলে জানান তিনি।
র‌্যারেব গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সকালে ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, এরকম জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে, কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ছয় তলা ভবনটির পঞ্চম তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে কিছু গোলাগুলি হয়, কিছু গ্রেনেডও নিক্ষেপ হয়।”
তার ব্রিফ্রিংয়ের কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সকাল দশটার দিকে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি কয়েকজন তরুণ পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ওই বাসার একটি ঘরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।  
সেখানে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে, যেগুলোর ছবি একই রকম, কিন্তু একটিতে নাম লেখা হয়েছে জাহিদ, অন্যটিতে সজীব। এনআইডিগুলো জাল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান র‌্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “তাদের একজনের গায়ে সুইসাইড ভেস্ট ছিল। একজনের ডেডবডির নিচে একটি আইইডি রয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার ওপর আইইডি রেখে আগুন জ্বালিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বলে মনে হয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি।”
পরে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, পাঁচ তলার ওই ফ্ল্যাটে কক্ষ মোট তিনটি, সেখানে থাকতেন মোট সাতজন। ফ্ল্যাটে ঢোকার পর সোজা গেলে যে কক্ষটি, সেখানেই তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। আর বাকি দুই কক্ষ থেকে চারজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, রুবি ভিলার ষষ্ঠ তলার দুই ইউনিটে দুটি মেস। আর পঞ্চম তলার দুই ইউনিটের মধ্যে একটিতে মেস, সেখানেই ছিল জঙ্গি আস্তানা। ভবনের বাকি ছয়টি ফ্ল্যাটে ফ্যামিলি বাসা, আর নিচতলায় গ্যারেজ। অভিযানের শুরুতেই বাড়ির গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ভবনের নয়টি ফ্ল্যাট থেকে ৬১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে দোতলায় বাড়িওয়ালার বাসায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মুফতি মাহমুদ জানান।
ওই এলাকার একটি মাংসের দোকানের বিক্রেতা আবদুল বারেক জানান, রুবি ভিলার মালিকের নাম সাব্বির রহমান। এলাকার মানুষের সঙ্গে ওই পরিবারের খুব একটা মেলামেশা নেই। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের তেমন দেখা যেত না। বাড়ির দেখভাল করতেন মূলত একজন কেয়ারটেকার।
রুবি ভিলার পেছনের বাড়ির বাসিন্দা বদরুল (৩৫) বলেন, ভোর রাতে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। সে সময় বাইরে দৌড়াদৌড়ির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
বদরুল বলেন, রুবি ভিলার মালিক সাব্বির এক সময় বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন বলে তারা শুনেছেন। বছর পনের আগে ওই নির্মাণ করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ।
অভিযানে থাকা এক র‌্যাব সদস্য জানান, ওই ভবনের কেয়াটেকার রুবেল এবং বাড়িওয়ালার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তবে বাড়ির মালিককে পাওয়া যায়নি।
রুবি ভিলার কাছে র‌্যাবের ঘেরাওয়ের বাইরে কামাল হোসেন নামের এক প্রৌঢ় জানান, তার ছেলে পারভেজ হোসেন পরাগ ওই বাসার ষষ্ঠ তলায় একটি মেসে থাকে। ভোর চারটার দিকে পরাগ তার মাকে ফোন করে জানায়, বাসার দড়জা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বাইরে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে।
ওই খবর পেয়েই গাজীপুর থেকে রওনা হয়ে সকালে নাখালপাড়ায় চলে এলেও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়নি কামালের।
তিনি বলেন, “সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কথা হয়েছে ওর সাথে। বলেছে ভালো আছে। কিন্তু আটটার পর থেকে ফোন বন্ধ পাচ্ছি। র‌্যাব তো ভেতরেও যেতে দিচ্ছে না।”
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, তাদের ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক টিমের কাজ শেষে সুরতহাল করে লাশগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। সব কাজ শেষ না হলে বাইরের কাওকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন