জরাজীর্ণ ঘরে ইফার শিক্ষা কার্যক্রম

আপডেট: 04:06:09 15/01/2019



img

মো. রূহুল কুদ্দুস, কেশবপুর (যশোর) : চারপাশে বাঁশের চটার বেড়া, ওপরে টিনের ছাউনি। মেঝেতে পাটের চট বিছানো। ভাঙাচোরে ব্লাকবোর্ড। মাটির মেঝেতে শীতের সকালে এমনই ঘরে কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৩টি প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
কর্তৃপক্ষের অবহেলার পরও শিক্ষিকারা ঝরেপড়ারোধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ প্রকল্প। শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও ঝরেপড়া কিশোর-কিশোরী এবং অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। সারা দেশের মতো কেশবপুরেও এ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে চাহিদামতো শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রকল্পের কয়েকটি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শনকালে এ চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার আটন্ডা গ্রামের সোলাইমান হোসেনের বাড়িতে শিক্ষিকা রহিমা খাতুন প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি নিজের তৈরি ঘরে শিক্ষার্থীদের সকাল আটটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত পড়ান। ঘরটি টিনের ছাউনির হলেও মেঝে মাটির। চারপাশে বাঁশের চটার বেড়া। তিনি এর ওপর চট বিছিয়ে এই শীতের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়ান। তিনি আরবি, বাংলা, অংক ও ইংরেজি বিষয়ে শিশুদের জ্ঞান দেন। তার প্রচেষ্টায় এ কেন্দ্রে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে থাকে। দেখা যায়, শিক্ষার্থী লাবিবা সুলতানা ঐশী, মরিয়াম খাতুন, তারিন জামান জেবা, আব্দুল আওয়ালরা জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। একটি বøাকবোর্ড থাকলেও তা প্রায় ব্যবহার-অনুপযোগী। উপজেলার অধিকাংশ স্কুলের এমন বেহাল দশা।
এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেশবপুর উপজেলা শাখার সুপারভাইজার আশিকুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় ৬৩টি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল, ৮৮টি সহজ কোরআন শিক্ষা ও একটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকে সাড়ে চার বছর থেকে সাড়ে পাঁচ বছরের বাচ্চারা লেখাপড়া করে থাকে।
বøাকবোর্ড নষ্টের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে প্রতিটি স্কুলের চাহিদাপত্র নিয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

আরও পড়ুন