জনবল সংকটে নদী-খাল পুনঃখনন প্রকল্প

আপডেট: 07:35:10 11/01/2019



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার পাঁচটি নদী ও দুটি খাল পুনঃখনন করার কাজ জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
জনবল সংকট দূর করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম।
চুয়াডাঙ্গা পনি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ খাল, ছোট নদী এবং জলাশয়ে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য পুনঃখননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষিকাজে পানি ব্যবহার ও সুযোগ মতো মাছ চাষের জন্যই এ প্রকল্প ২০ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে শুরু হবে।
তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার ১৪ কিলোমিটার নবগঙ্গা নদী, ২৫ কিলোমিটার চিত্রা নদী, ১২ কিলোমিটার কুমার নদ ও ছয় কিলোমিটার নৌকা খাল এবং চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মেহেরপুর জেলার আট কিলোমিটার ছেউটিয়া নদী, ৮ কিলোমিটার কাজলা নদী, মুজিবনগর উপজেলায় সরস্বতী খাল দশ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ কাজ বাস্তবায়নে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খননকাজ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হতে পারে বলে তিনি জানান।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, খনন কাজ তদারকি ও বুঝে নেওয়ার জন্য জনবল সংকট রয়েছে। কিন্তু তা পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মেহেরপুর জেলাও রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ৬৯ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৯ জন, শূন্য রয়েছে ৪৩ পদ। শূন্য পদগুলো হলো, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একজন, সহকারী প্রকৌশলী (রাজস্ব) একজন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাখা কর্মকর্তা তিনজন, সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা একজন, সহকারী সেচ কর্মকর্তা একজন, উচ্চমান সহকারী কাম প্রধান করণিক একজন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তিনজন, সার্ভেয়ার (রাজস্ব) একজন, সার্ভেয়ার দুইজন, ট্রেসার একজন, কার্যসহকারী ছয়জন, হিসাব করণিক একজন, গাড়িচালক তিনজন, ইলেট্রিশিয়ান একজন, পাম্প অপারেটর একজন, অফিস সহায়ক নয়জন, মালি একজন, নিরাপত্তা প্রহরী তিনজন এবং সহকারী কুক একজন।
নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, দ্রুত জনবল সংকট দূর না হলে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দুষ্কর হবে। ভেস্তে যাবে সরকারের উদ্যোগ।
এদিকে নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের উদ্যোগে খুশি মানুষ। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মরহুম বিশারতের ছেলে কৃষক ইলিয়াস হোসেন (৫৫) বলেন, ‘আগে চিত্রা নদীর পানি ব্যবহার করেই আমাদের কৃষি কাজ চলতো। চিত্রা নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আর পানি থাকে না। চিত্রা নদী চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামের মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ, যশোর ও নড়াইল জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদী খনন করলে কৃষকদের সেচকাজে সহায়ক হবে।’
একই উপজেলার দোস্ত গ্রামের মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক হাবিবুর রহমান কাজল (৪৫) বলেন, ‘পানির অভাবে আমাদের এ অঞ্চলে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এ গ্রাম দিয়ে চিত্রা নদী প্রবাহিত হলেও সেখানে পানি প্রবাহ নেই। এই নদীটি খনন হলে এখানকার মানুষ কৃষিতে আরো সমৃদ্ধশালী হবে।’
চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ার মরহুম আহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে কুদ্দুস মণ্ডল (৭০) বলেন, ‘আমার আবাদি জমির পাশ দিয়ে নবগঙ্গা খাল প্রবাহিত হলেও সেখানে পানি না থাকায় সেচ সুবিধা পাওয়া যায় না। নবগঙ্গা খাল খনন হলে আমাদের কৃষিকাজে বেশ উপকার হবে। এরপর থেকে পানির সমস্যায় থাকতে হবে না।’

আরও পড়ুন