ছেলের মরদেহ এসেছে, স্বামীরটা আনতে স্ত্রী কলকাতায়

আপডেট: 07:28:11 18/04/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : আসাদ মণ্ডলের (১৫) মরদেহ বাংলাদেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। মরদেহটি মঙ্গলবার বেনাপোলে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
কিন্তু আসাদের বাবা রফিক মণ্ডলের মরদেহ এখনো পড়ে আছে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। মৃত্যুসনদ আনতে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কলকাতা গেছেন রফিকের স্ত্রী ও আসাদের মা আরমা বেগম। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কবে কখন রফিকের মরদেহ হস্তান্তর হবে, তা কেউ বলতে পারছেন না।
বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু পরিবেশ ভারি করে তুলেছে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট এলাকার। স্বজনদের আহাজারিতে বেদনার্ত যাত্রীরা।
বেনাপোল চেকপোস্টে মরদেহ নিতে আসা মৃত রফিকের চাচা খন্দকার আলী জানান, রফিক মণ্ডল পেশায় কৃষক। একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে দেশেই আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন রফিক। সব জমি-জমা বিক্রি করে ডাক্তারের পরামর্শ মতো চার মাস ধরে ছেলের চিকিৎসার পেছনে অকাতরে টাকা খরচ করেছেন। ডাক্তারও আশ্বস্ত করে আসছিলেন, আসাদ সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু দিন দিন ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় বাবার মন ভালো বলছিলো না। তাই তিনি আত্মীয়দের পরামর্শে কোনোমতে টাকা-পয়সা জোগাড় করে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করাতে গত ১২ এপ্রিল স্ত্রীসহ ভারতের কলকাতায় যান। কলকাতায় এসে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে আসাদের চিকিৎসাও শুরু হয়। ১৬ এপ্রিল ওই হাসপাতালেই মারা যায় আসাদ।
‘‘ভর্তির পর পরই ডাক্তাররা বলেছিলেন, ‘ছেলের যে হাল করে এনেছেন, তাতে বাঁচানোর কোনো সুযোগ নেই। অযথা টাকা খরচ না করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান,’’ বলছিলেন খন্দকার আলী।
ছেলে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার আসাদের লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন আরমা বেগম-রফিক মণ্ডল দম্পতি। সোমবার বিকেলের দিকে পেট্রাপোল চেকপোস্টে পৌঁছান তারা। এরপর সীমান্ত পার হওয়ার আগে পেট্রাপোলে অপেক্ষারত অবস্থায় হঠাৎই রফিক মণ্ডল বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় স্থানীয় রামেশ্বর রায় নামে এক ব্যক্তির সাহায্যে বাথরুমে যাওয়ার পথে হঠাৎ করেই বমি ও প্রচণ্ড বুকে ব্যথায় জ্ঞান হারান তিনি। স্থানীয়রা তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা রফিক মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ এখনো ওই হাসপাতালে রয়েছে। মরদেহ ছাড় করাতে আরমা বেগম সকালেই ছুটে গেছেন কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে।
রফিক মণ্ডলের মরদেহ দেশে পৌঁছুলে বাবা-ছেলেকে একসঙ্গে দাফন করা হবে বলে জানান তাদের স্বজন খন্দকার আলী।

আরও পড়ুন