ছাত্রী ধর্ষণের চেষ্টাকালে চৌগাছায় প্রধান শিক্ষক ধরা

আপডেট: 08:51:18 21/04/2017



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার সবুজকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের বহুল আলোচিত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চৌগাছা থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর ওই স্কুলের একজন শিক্ষিকা, নৈশপ্রহরী কাম স্কুল ভ্যানচালক ও স্কুলের পাশের একটি ভবনের মালিক এক নারী ঘটনা প্রত্যক্ষ করে অন্যদের নিয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে হাতেনাতে পাকড়াও করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শহরের সবুজকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ছুটির পর স্কুলভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রাইভেট পড়ান। তার কাছে প্রাইভেট পড়ে শহরের শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। সে সবুজকুঁড়ির সাবেক ছাত্রী। প্রধান শিক্ষক আজাদ অন্য শিক্ষার্থীদের যে কক্ষে প্রাইভেট পড়ান, ওই ছাত্রীকে সেকক্ষে না পড়িয়ে অন্য একটি কক্ষে একা একা পড়ান। প্রাইভেট পড়ানোর সময় নৈশপ্রহরী কাম স্কুলভ্যান চালক হাসানুর রহমানের প্রতি নির্দেশনা থাকে অনুমতি ছাড়া কেউ যেন দ্বিতীয় তলায় না ওঠে। এ নির্দেশে হাসানুরের সন্দেহ হয়। তিনি শিক্ষক আজাদের ওপর নজরদারি করতে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, অন্য কয়েক শিক্ষকসহ পাশের ভবনগুলোর মালিকদের তিনি বিষয়টি জানিয়ে রাখেন।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর প্রাইভেট পড়ানো শেষ হলে সব ছাত্রছাত্রী নিচে নেমে যে যার মতো বাড়িতে চলে যায়। তবে ভিন্ন কক্ষে থাকা ওই ছাত্রী চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রধান শিক্ষক আজাদ বাধা দিয়ে তাকে জাপটে ধরেন। এ সময় প্রহরী হাসানুর দ্বিতীয় তলায় উঠে তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে অন্যদের খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে লোকজন জড়ো হন। তারা ওই ছাত্রীকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। ওই ছাত্রী উপস্থিত লোকজনকে, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করছিলেন প্রধান শিক্ষক। লোকজন ছাত্রীর বাবাকে ফোনে ডেকে মেয়েকে তার হাতে তুলে দেন।
এবিষয়ে স্কুলটির পরিচালক আলহাজ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ওই শিক্ষকের এমন কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি ঢাকায় আছি। বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। ঘটনার প্রমাণ পেলে অবশ্যই দেখব।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে, সন্ধ্যায় চৌগাছা থানার এসআই ওয়াহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আবুল কালাম আজাদকে তার বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান।
জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘ওসি স্যার উনার সাথে কথা বলার জন্য আমাকে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। আমি ফোর্সসহ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে এসেছি।’
এবিষয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার আকিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি টেলিফোনে জেনেছি। তবে এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।’
স্কুলের শিক্ষক মহিউদ্দীন, টিপু সুলতান, মাহবুবা, পারুল আক্তার, বুলবুলি খাতুন, রজব আলী, কবিরউদ্দীন, মোমিনুর রহমান, সুব্রতকুমার জানান, প্রধান শিক্ষক আজাদের কারণে স্কুলের সুনাম বারবার নষ্ট হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন এর আগেও এই প্রধান শিক্ষক নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও স্কুলের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। আবার তাকে তালাকও দেন। একাধিকবার স্কুলের সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েও মোটা টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে গেছেন তিনি।
অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালে স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গরুর মাংস খাওয়ান ওই শিক্ষক। বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যন্ত গড়ালেও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ধামাচাপা পড়ে যায়। সে যাত্রা মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান তিনি।
সব শেষ ঘটনার পর শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ওই প্রধান শিক্ষক স্কুলে এলে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। প্রয়োজনে তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি মহল ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী নির্যাতিত ছাত্রীর বাবাকেও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন