ছাত্রী ধর্ষণের আলোচিত অভিযোগ তদন্তে পিবিআই

আপডেট: 09:26:33 18/04/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের ঘটনায় আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর যশোর জেলা ইনচার্জ আব্দুল মতিন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনা তদন্তে তিনি রাজগঞ্জে আসেন। এসময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক একেএম ফারুক হোসেন ও মানবাধিকার কর্মী মামুনুর রশীদ লাল্টু উপস্থিত ছিলেন।
মামুনুর রশীদ লাল্টু জানান, অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে ওই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলযোগে তুলে নিয়ে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের নলতা হাকিমপুর গ্রামের কথিত কবিরাজ সাখাওয়াতের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে পুলিশপুত্র রুমান নামে এক যুবক। ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ করে রুমানের দুই সহযোগী রয়েল ও রুবেল। এরা সবাই রাজগঞ্জ এলাকার। সেই ঘটনায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্নোগ্রাফি আইনে আদালতে মামলা করে মেয়েটি। আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআই-কে দেন। সেই অনুযায়ী পিবিআই যশোর জেলার ইনচার্জ আব্দুল মতিন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক একেএম ফারুক হোসেন ঘটনা তদন্তে রাজগঞ্জে আসেন।
লাল্টু জানান, যেখান থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয় এবং যেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়, সে সব জায়গা পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এসময় মেয়েটি ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একেএম ফারুক হোসেন বলেন, ‘তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় গিয়ে মেয়ে, মেয়ের মা, কবিরাজ সাখাওয়াত ও ঘটনাটি জানেন এমন অনেকের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা সবাই ঘটনা সত্য বলে জানিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, রাজগঞ্জের ওই ছাত্রী ধর্ষণের মূল হোতা রুমান হাতেনাতে ধরা পড়লেও পুলিশের ছেলে হওয়ায় থানার সদ্য বিদায়ী ওসি বিপ্লবকুমার নাথ ও রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আইনুদ্দিন তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষ থেকে মামলা করতে থানায় গেলে ওসি বিপ্লব মামলা না নিয়ে ভিডিওটি পুরানো বলে মেয়ের বাবা-মাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে ওসি বিপ্লব ও আইনুদ্দিন অভিযুক্ত রুমানের স্বজনদের কাছ থেকে গোপনে দুই লাখ টাকা নিয়ে ঘটনাটি অপহরণ বলে চালিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ওই সময় সুবর্ণভূমিসহ গণমাধ্যমে ছাত্রী ধর্ষণের রিপোর্টটি ফলাও করে প্রকাশ পেলে বিপাকে পড়েন ওসি বিপ্লব। পরে অপহরণ মামলার সঙ্গে ধর্ষণ মামলার ধারাটি যোগ করতে বাধ্য হন তিনি। তবে ঘটনার মূল আসামি রুমান আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

আরও পড়ুন