চেয়ারম্যান রতন হত্যাপ্রচেষ্টা : মামলা হয়নি, গ্রেফতার নেই

আপডেট: 12:42:58 09/01/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : আটদিন অতিবাহিত হলেও সাতক্ষীার দেবহাটার সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুফ হোসেন রতন হত্যাপ্রচেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ এবং আহতের পরিবারের কেউ এখনো থানায় মামলা করেনি। এমনকি আটদিনে কেউ গ্রেফতারও হয়নি। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে গভীর রহস্যের।
এর আগে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একটি সশস্ত্র গ্রুপ রতনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। সেযাত্রায় রতন বেঁচে যান। ঘটনার ব্যাপারে মামলাও হয়। চার বছরে সে হত্যাপ্রচেষ্টা মামলারও অগ্রগতি হয়নি।
গত ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পারুলিয়া বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে প্রাইভেট কারযোগে আসা দুর্বৃত্তরা সখীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে দেবহাটার সখীপুর ইউপি চেয়ারম্যান রতনকে গুলি করে ফেলে পালিয়ে যায়। পুুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। চেয়ারম্যান রতনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের পর ৪ জানুয়ারি তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ঘটনার আটদিন অতিবাহিত হলেও দেবহাটা থানায় এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। শেখ ফারুফ হোসেন রতন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুফ হোসেন রতন (৪২) হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা পুলিশের দপ্তরে নথিভুক্ত না হওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার পর রতনের প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আজিজকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামাল জানান, বাদীর পক্ষে হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা দেওয়া হলে তা গ্রহণ করা হবে। তাদের মামলা করতে বলা হয়েছে। তবে তারা সবাই চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একটি গরুর খাটালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ঘটনার দিন একটি জমি রেজিস্ট্রি করা নিয়ে বিরোধ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যর সঙ্গে চেয়ারম্যানের বনিবনা না হওয়া, মাদক ব্যবসা বিস্তার এবং দলীয় কোন্দল নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। হত্যাপ্রচেষ্টার পেছনে এসবের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে।
এরআগে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যারাতে পারুলিয়া বাজারে শত শত মানুষের সামনে আবু রায়হান নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন হন। এছাড়া ২০০৮ সালে সাতক্ষীরা জেলার ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম চঞ্চল, সরুলিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, খলিশখালি ইউপি চেয়ারম্যান লক্ষ্মীকান্ত সরকার, মোক্তার খাঁ এবং তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুম্মান খাঁর হত্যার ব্যাপারে স্বজনরা সুবিচার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু চঞ্চল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দুই আসামির যাবজ্জীবন হলেও হাইকোর্ট থেকে দুইজনই বেকসুর খালাস পান।

আরও পড়ুন