চেয়ারম্যানপুত্রের হামলায় গ্রামপুলিশ গুরুতর

আপডেট: 07:08:10 21/04/2017



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী বিশ্বাসের ছেলে বাপ্পি ও তার ক্যাডারদের হামলায় মাসুদুর রহমান (৩৫) নামে এক গ্রামপুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সন্ত্রাসীরা মাসুদকে পলাশী বাসুদেবপুর এলাকার বাড়ি থেকে তুলে এনে পিটিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। মাসুদকে উদ্ধার করে শুক্রবার সকালে স্বজনরা মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বিষয়টি জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
আহত মাসুদ জানান, দফাদার পদে পদোন্নতির কথা বলে চেয়ারম্যান আনছার প্রায় দেড় মাস আগে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু চেয়ারম্যান তাকে পদোন্নতি না দিয়ে ইদ্রিস নামে আরেক গ্রামপুলিশকে দফাদার পদে পদোন্নতি দিয়েছেন।
‘সম্প্রতি বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে অভিযোগ করায় বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারম্যানের ছেলেসহ তার লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়,’ অভিযোগ মাসুদের।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে চেয়ারম্যানের ছেলে বাপ্পি ও রাজবাড়ি এলাকার নয়নসহ পাঁচ সন্ত্রাসী ‘চেয়ারম্যান ডাকছে’ বলে মাসুদকে বাড়ি থেকে তুলে রাস্তায় নিয়ে আসে। রাস্তায় সন্ত্রাসীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে চেয়ারম্যানের জিপ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। মাসুদ গাড়িতে উঠতে না চাইলে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। মাসুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিলে যায়। বিষয়টি জানাতে রাতেই মাসুদের লোকজন ইউএনওকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে থানার ওসিকে ঘটনা জানানো হয়।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘রাতেই আমাকে মাসুদ ফোনে সব জানিয়েছে। আমি তাকে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলতে বলেছি। মাসুদের পক্ষ থেকে মামলা পেলে তা গ্রহণ করা হবে।’
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল বলেন, ‘মাসুদের ওপর হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছি। এই ব্যাপারে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আনছার আলী বিশ্বাসকে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সুবর্ণভূমির প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান দাবি করেছিলেন, মাসুদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এটা তার বিরুদ্ধে দলেরই একটি চক্রের চক্রান্ত।

আরও পড়ুন