চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের টিকেট কালোবাজারিদের কব্জায়

আপডেট: 10:01:18 12/06/2018



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে ঈদযাত্রার টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। এ কাজের সঙ্গে রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারী জড়িত বলেও অভিযোগ।
চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন হয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ও লোকাল মিলিয়ে আপডাউনে ১৫টি ট্রেন যাতায়াত করে। এ স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গা ছাড়াও মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার যাত্রীরা টিকেট সংগ্রহ করে যাতায়াত করেন। এর ফলে এখানে টিকেটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ো নয় দিন আগে অনলাইনে টিকেট ছাড়ে। কিন্তু অভিযোগ করা হচ্ছে, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের কিছু কর্মচারী বরাদ্দ টিকেট নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। সে কারণে যাত্রীরা নির্ধারিত দিনের টিকেট পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেসের টিকেট কালোবাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার ভোর তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, টিকেট কাউন্টারের সামনে কিছু লোক পাটি বিছিয়ে শুয়ে আছেন। কাউন্টারের একপাশে শুয়ে ছিলেন শহরের আরামপাড়ার বাবর আলীর ছেলে উজ্জ্বল, সাতগাড়ীর জহিরের ছেলে শহিদ, ফার্মপাড়ার আইয়ুব শেখের ছেলে বাবুল ও একই পাড়ার হারুনের ছেলে রাতুল। এই সময় তারা রেলওয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে টেবির ফ্যান চালাচ্ছিলেন।
শুয়ে থাকা উজ্জ্বল দাবি করেন, তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার বাবাও রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই কারণে এখানকার অফিস কর্মচারী ডালিম তাকে ফ্যান ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন।
উজ্জ্বল জানান, তিনি চারটি টিকেট নেবেন। টিকেট কী করবেন- জানতে চাইলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
রেলওয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়ে বুকিং সহকারী ডালিম জানান, ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী তুহিনের নির্দেশে তিনি ফ্যান চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়েছেন।
শুয়ে থাকা বাবুল নামে আরেকজন নিজেকে রেলওয়ের চাকুরে দাবি করে বলেন, ‘কামাল আমাকে একটি টিকেটের জন্য বলেছে। সেজন্য আমাকে এখানে শুয়ে থাকতে বলেছে।’
টিকেট কিনতে আসা একাধিক স্থানীয় যাত্রী বলেন, চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনের টিকেট কাউন্টারের বুকিং সহকারী ডালিম, নজরুল, ইমরান, তোরাব ও শিলা তাদের লোকজন রেখে টিকেটগুলো তাদের মাধ্যমে কাটিয়ে নিয়ে পরে বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করেন। ডালিম ও শিলা রেলওয়ে কর্মচারী, তোরাব সিএনএস কোম্পানিতে কর্মরত, নজরুল সাবেক বুকিং সহকারী। আর ইমরান বহিরাগত। এরাই কাউন্টারের টিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী আব্দুস সামাদ বলেন, কালোবাজারির বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
স্টেশন মাস্টার আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রকারান্তরে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ স্বীকার করে নেন। বলেন, ‘প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন