গ্রামের বৃদ্ধরাও যাকে ‘দাদা’ বলেন

আপডেট: 02:42:31 11/06/2018



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর): বৃদ্ধ আকবর আলী। তার দাবি অনুযায়ী বাংলা সাত সালে অর্থাৎ ১৩০৭ বঙ্গাব্দে জন্ম। নাতি-নাতনিদের ছেলে-মেয়েদেরও বিয়ে হয়েছে। বৃদ্ধ বললে ভুল হবে অশীতিপর বৃদ্ধ। নাহ! ভুল বলা হলো। তিনি বৃদ্ধ নন ১১৮ বছরের যুবক। এই রোদ-গরমের দিনেও দিব্যি রোজা রাখছেন, নামাজ পড়ছেন, এমনকি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফে বসেছেন স্বরূপদাহ জামে মসজিদে।
আকবর আলী চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের স্বরূপদাহ গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে। একই গ্রামে শ্বশুরবাড়ি তার। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জনক আকবর আলী একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। এই বয়সেও তাই নিয়মিতই মাঠে ঘাস কাটতে যান তিনি। বলছিলেন, অন্য কাজ করতে না পারায় কেউ তাকে মজুর হিসেবে নেই না। সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোনো সুবিধা পান না তিনি।
গল্পের ছলে বলছিলেন, ‘আমার বয়স যখন চল্লিশ তখন বিয়ে করি একই গ্রামের রমেছা বেগমকে। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর।’
তাহলে তো আপনি বাল্য বিয়ে করেছেন! হেসে ফেলেন কালের সাক্ষী এই ব্যক্তি।
আরেকটি মজার তথ্য দেন আকবর আলী। জানান, তার চেয়ে তার শ্বাশুড়ি বয়সে ১০-১৫ বছরের ছোট ছিলেন। ‘আমি এট্টু বয়স হলে বিয়ে করিলাম বলে এমন হইলো।’
তবে বছর ১০-১২ আগে একবার আকবর আলী মারা গিয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন কবরও খোড়া হয়েছিল বলে জানালেন মসজিদের ইমাম মুনছুর আলী, মাওলানা গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজন। পরে তার বড় ছেলে চান্দালী দেখেন, বাবা মারা যাননি। গ্রামের বয়স্করাও তাকে ‘দাদা’ বলে ডাকেন।
ইফতারের পর স্বরূপদাহ জামে মসজিদে বসেই কথা হয় আকবর আলীর সঙ্গে। বয়স ১১৮ বছর হলেও চোখে চশমা লাগে না তার। দাঁতও আছে। স্মরণশক্তি বেশ প্রখর। জীবনকালে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ছাড়াও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন তিনি। দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও।
তিন তিনটি যুদ্ধ দেখলেও আকবর এর কোনোটিতেই অংশ নেননি। কারণ হিসেবে জানান, তার মৃত্যুর ভয় খুব। ‘মরণের ভয়ে যুদ্ধে গিইলাম না।’
প্রচণ্ড গরমেও রোজা রাখছেন এই অশীতিপর বৃদ্ধ। মসজিদে খাবার পৌঁছে দেন তার বড় ছেলে।
অভাব-অনটন বা বয়সের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় কোনো আফসোস নেই আকবর আলীর। নিজেই নিজের সংসার চালান। প্রায় ৩০ বছরের ছোট স্ত্রী রমেছা বেগম এখনো তাকে রান্না করে খাওয়ান।
তবে বয়সের ব্যাপারে স্থানীয়দের হিসেবের সাথে মেলে না বৃদ্ধের হিসেব। স্থানীয়রা তার বয়স ১০৮ বছর বলেন।
১০৮ বা ১১৮ যেটিই হোক শতবর্ষী আকবর আলী সুস্থ থেকেই যেন রোজা ও ইতিকাফ সম্পন্ন করতে পারেন সেই দোয়া কামনা করেছেন সকলের কাছে।