গাড়ির টিকিটের আশায় ভারতফেরত হাজারো যাত্রী

আপডেট: 03:16:37 11/07/2016



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : টিকিট না পেয়ে ভারতফেরত হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন বেনাপোলে। বেনাপোল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে আসা যাত্রী ছাড়াও ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা মানুষেরা পড়েছেন ভয়ানক বিপদে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল মাহমুদ জানান,  আগে গড়ে যেখানে বেনাপোল হয়ে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো যাত্রী যাতায়াত করতেন এখন তা বেড়ে ৬-৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। রোববার ভারত গেছেন দুই হাজার ৪২৮ জন, এসেছেন চার হাজার ৫১৪ জন। শনিবার আট হাজার ১০২ জন যাত্রী বেনাপোল দিয়ে পারাপার হয়েছেন; যা এ যাবৎকালের রেকর্ড। এর মধ্যে ভারতে গেছেন চার হাজার ৯৭ জন ও ভারত খেকে এসেছেন চার হাজার পাঁচজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোলে হঠাৎ যাত্রীর এই বিপুল চাপের কারণ মূলত দুটি। এক. ঈদ প্যাকেজের আওতায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশিকে ভিসা দেয়। যাদের বিপুল অধিকাংশই সড়কপথে বেনাপোল হয়ে কলকাতা বা কলকাতা হয়ে ভারতের অন্য কোথাও গেছেন। তারা এখন আবার এই পথেই ফিরছেন। দুই. গুলশানে জঙ্গি হানার পর ঢাকা-কলকাতা রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে ট্রেনের যাত্রীদের অনেকেই বেনাপোল হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার বেনাপোলের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা যেতে ইচ্ছুক শত শত যাত্রী বাসের টিকিটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কোথাও টিকিট না পেয়ে বিকল্প উপায়ে বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে দেখা গেছে অনেককে। কেউ মাইক্রোবাস, কেউবা ভাড়ায় চালিত কার প্রভৃতি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
বেনাপোলের ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজের’ ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বহু লোক বাসের টিকিট না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাস ও কার রিজার্ভ করে ঢাকা যাচ্ছে।
বেনাপোলে ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে ভারত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রী ঢাকার তাঁতিবাজারের সুমিতা সরকার বলেন, ‘আমরা সকালে ভারত থেকে দেশে ফিরেছি। কিন্ত টিকিট না পাওয়ার কারণে বাড়ি ফিরতে পারছি না।’
সুমিতা সরকারের মতো ভারত থেকে ফিরে বেকায়দায় পড়েছেন বিশ্বনাথ ম-ল, শামীম আহম্মেদ ও তার স্ত্রী মৌসুমি আক্তারসহ শত শত যাত্রীরা।
ঢাকার ডেমরার বিশ্বনাথ ম-ল বলেন, ‘বহুবার ভারত গিয়েছি। কিন্তু বেনাপোলে এসে এমন সমস্যায় কখনো পড়িনি। সবগুলো কাউন্টার ঘুরেছি, কোথাও বাসটিকিট পেলাম না।’
গাজীপুরের একটি রফতানিমুখি সোয়েটার কারখানার অপারেটর বেনাপোলের পুটখালি অভয়বাস গ্রামের গৃহবধূ মুনিরা খাতুন বলেন, ‘ঈদের আগে বাড়ি আসার সময় টিকিট কাটতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। বাড়িতে সবার সাথে ঈদ উদযাপন করেছি আনন্দের সাথে। আগামী মঙ্গলবার আমাকে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তুু যাওয়ার জন্য কোনো বাসের টিকিট পাচ্ছি না। একটি পরিবহন কোম্পানির ম্যানেজারকে অনেক অনুরোধ করেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। দেখি কী হয়!’
ঢাকার একটি ব্যাংকে চাকরি করা বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামের রিফাত হাসান বলেন, ‘রাজধানীর যানজট, কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে এই যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্যই ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছিলাম। চাকরির তাড়া খেয়ে আগে ভাগেই ফেরার জন্য দুই দিন ঘুরেও টিকিট যোগাড় করতে পারিনি। তারপরও যেকোনো উপায়ে ফিরতে হবে কর্মস্থলে।’
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসিকুল কবীর সুমন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেই ফিরতি টিকিট কেটে নিয়েছি। আগে-ভাগে টিকিট না কাটলে এখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো।’
যাত্রীর প্রচ- চাপের সুযোগ নিচ্ছে পরিবহন কোম্পানিগুলো। বাসগুলোতে  ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। সরেজমিনে যশোর ও বেনাপোলের বিভিন্ন কাউন্টারে এ নিয়ে পরিবহন কর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের বচসায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে ঈগল পরিবহনের যশোর শহরের কাউন্টারগুলোতে কর্মরতদের কেউই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করেননি। তাদের যুক্তি, ঈদের পর ঢাকা থেকে খালি গাড়ি আসছে। ফলে এই খরচ পোষাতে বাড়তি ভাড়া নিতেই হবে।
তবে পরিবহন কোম্পানিটির বেনাপোল অফিসের ব্যবস্থাপক এম আর রহমান বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত নয়, সরকারনির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
সোহাগ পরিবহনের বেনাপোল কাউন্টারের ম্যানেজার সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে এখন খালি গাড়ি আসছে বিধায় আগের চেয়ে টিকিটপ্রতি ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এটা চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত।’

আরও পড়ুন