কালীগঞ্জে যুবলীগ কর্মী হত্যা, কয়েক বাড়িতে আগুন

আপডেট: 03:35:08 15/03/2017



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জের মনোহরপুর গ্রামে যুবলীগ কর্মী বিপুল মণ্ডল (২৩) হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কয়েকটি বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মনোহরপুর গ্রামে বিপুল মণ্ডল (২৩) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে একই দলের সন্ত্রাসীরা। এ সময় জাহাঙ্গীর নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী জখম হন। মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মনোহরপুর গ্রামের হাটখোলা এলাকার কবরস্থানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
রাতেই আহত জাহাঙ্গীরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহত বিপুল মনোহরপুর গ্রামের ফজলু মণ্ডলের ছেলে ও আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাতেই সন্দেহভাজন ছয় হত্যাকারীকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এসময় তারা হোরাক আলী, হাসেম লস্কর, শামছুল মণ্ডল ও মুনছুর মালিতার বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাংচুর করে। সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
গ্রামবাসী বলছেন, গত ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বর প্রার্থীকে কেন্দ্র করে মনোহরপুর গ্রামে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। উপজেলার শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মেম্বর ও মনোহরপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বজলু মণ্ডলের মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মেম্বর চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরীর আস্থাভাজন।
নিহতের চাচাতো ভাই রকিব হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে মনোহরপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বিপুল ও তার সহযোগী জাহাঙ্গীর হোসেন। গ্রামের বড় বাড়ির কবরস্থানের পাশে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের দুইজনকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
তিনি অভিযোগ করেন, লিটন গ্রুপের লোকজন তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আর এই লিটন গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ করেন শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরী। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল পুকুরিয়া গ্রামের লিটন মেম্বর, সোহাগ, রাসেল ও মনোহরপুর গ্রামের সাদ্দাম, রিয়াজ, মোহাম্মদ, নওশের, আমির, হুরাকসহ আরো ৫-৬ জন বলে তিনি জানান।
নিহত বিপুলের চাচা ও কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরীর নির্দেশে আমার ভাইয়ের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে থানায় হত্যা মামলা করা হবে।’
বিপুল আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে তিনি জানান।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নেতা লিটন মেম্বর ও বজলু মণ্ডলের মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে লিটন গ্রুপের লোকজন বিপুল ও তার সঙ্গে থাকা জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা করে।
তিনি আরো জানান, রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো থানায় মামলা হয়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন