এবার পাইকগাছায় তৈরি হচ্ছে ভাসমান সেতু

আপডেট: 09:43:12 07/06/2018



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপার পর এবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নড়া নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে ভাসমান সেতু।
লোনা পানির এই বিস্তীর্ণ জনপদের অবহেলিত মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় আলোক দ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক রণজিৎ রায় ও সুকৃতি সরকারের প্রচেষ্টায় উপজেলার লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দিঘুলিয়া-মুনকিয়া গ্রামের সীমান্তবর্তী বিদ্যালয়টির পাশে নড়া নদীর উপর তৈরি হচ্ছে এই ভাসমান সেতু।
এব্যাপারে আলোকদ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সেতুর উদ্যোক্তা রণজিৎকুমার রায় জানান, উপজেলার দুর্গম পল্লী জামতলা, বারহাড়িয়া, দেলুটিসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে নৌকাযোগে নদী পার হতে হয়; যা ভোগান্তির। ঝুঁকিপূর্ণও বটে। এছাড়া এলাকাবাসীদের বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র কপিলমুনি ও উপজেলা সদর পাইকগাছায় যাতায়াত করতে হয়। তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে সেখানে কোনো ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নদীর ওপর প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে একটি ভাসমান সেতু নির্মিত হলে উপজেলার দুই ইউনিয়ন লতা ও দেলুটির প্রায় ২০ হাজার মানুষের সুষ্ঠু যাতায়াতের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়টির অপর শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সুকৃতি মোহন সরকার বলেন, ‘নড়া নদীর প্রশস্ততা খুব বেশি না হলেও গভীরতা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নদী পারাপারে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যার অন্ত থাকে না। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর আগে একাধিকবার নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে। এতে ছেলেমেয়েদের বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিও কমে যায়।’
যে স্থানে ভাসমান সেতু হচ্ছে, সেখানে নদীর প্রস্থ প্রায় ১৫০ ফুট। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে নদীর দুই পারে উদ্যোক্তারা নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ ফুট মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। বাকি ১০০ ফুট নদীর ওপর হবে ভাসমান সেতু। ৪ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ড্রাম কেনা হয়েছে। এবার লোহার পাত থেকে শুরু করে অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে ধরে নিয়ে দুই শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে খরচ করেছেন লক্ষাধিক টাকা। বাকি টাকার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং সাধারণ গ্রামবাসীর কাছে আবেদন করেছেন। তাদের ধারণা, উদ্যোগটি যেহেতু মহৎ, তাই এলাকাবাসী সাড়া দেবেন। আর টাকা সংগ্রহ শুরুর পর পরই শুরু হবে নড়া নদীর ওপর ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ।

আরও পড়ুন