উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেছে বাজারের টিনশেড

আপডেট: 07:34:42 11/01/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের সবজিবাজারে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত টিনশেডটি উদ্বোধনের আগেই ভেঙে গেছে।
হারদী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সোহরাব উদ্দিন জানান, হারদী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সাত্তার ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্য রাফেজা এবং চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামের উদ্যোগে এই টিনশেডটি নির্মাণ করা হয়। এই শেডটি নির্মাণ করা হয় কর্মসৃজন, টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও এলজিএসপির অর্থায়নে।
এ ধরনের কাজ এসকল প্রকল্পের টাকায় করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়গুলো চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামই জানে।’
বাজারের আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা খরচ করে উন্নয়ন কাজ করে থাকেন। ওই কাজগুলো ঠিকাদারদের দিয়ে করানো হয় না। হারদী গ্রামের মরহুম রসুল বিশ্বাসের ছেলে ও চেয়ারম্যানের আপন ভাই কামরুল ইসলাম এবং চেয়ারম্যানের বড় ভাই ডাবলুর ছেলে শামসুল আলম এই কাজগুলো করেন। এ কারণে প্রত্যেকটি কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হলেও কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, অনিয়মের মাধ্যমে এই কাজগুলো করার পেছনে বড় মাপের দুর্নীতি আছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করলে যা বেরিয়ে আসবে।
অপরিকল্পিত ও অনিয়মের মধ্যে অর্থায়ন করে হারদী বাজারে টিনশেড নির্মাণের বিষয়ে হারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এভাবেই অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। টিন শেডটি নির্মাণ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে।’
এরপর তিনি এ প্রতিবেদককে এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ করেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত মান্নান এ বিষয়ে বলেন, ‘আরে আপনি এ কাজে অপরিকল্পিত ও অনিয়ম কোথায় দেখলেন? হারদী ইউনিয়নের কাজগুলোকে আমরা অন্যান্য ইউনিয়নকে অনুকরণ করতে বলি। আর আপনি বলছেন উল্টো।’
এর কিছুক্ষণ পর আবার তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়েছি। ওই কাজে একটু সমস্যা হয়েছে। ওটার ব্যাপারে নিউজ করার দরকার নেই। নিউজ করলে ওরা ভালো কাজ করতে চাইবে না।’

আরও পড়ুন